বাহুবালি মুভি রিভিউ ও বক্স অফিস রিপোর্ট

bahubali movie review - বাহুবালি মুভি রিভিউ ও বক্স অফিস রিপোর্ট
ঐতিহাসিক ব্লকবাস্টার Bahubali The Conclusion সিনেমার পাচ বছর!!! 

আজ সিনেমার রেকর্ডগুলো নিয়ে কিছুটা আলোচনা করবো। 
………………………………………………………….
• বাজেটঃ- ১৯৫ কোটি [সব মিলিয়ে]
• ডমেস্টিক নেটঃ- ১১১৫.৮৬ কোটি [অল ভার্শন]
• ডমেস্টিক গ্রোসঃ- ১৪৩০ কোটি।
 • ওভারসীসঃ- ৩৮০ কোটি [59 Million USD]
• ওয়ার্ল্ডওয়াইডঃ- ১৮১০ কোটি। 
• ডমেস্টিক ফুটফলস (টিকিট সেল)- ১০.৬-১১ কোটি প্রায়। 
• অল টাইম ব্লকবাস্টার
……………………………….
Bahubali The Conclusion Movie Review
…………………………
অন্যান্য রেকর্ড 
* ভারতের প্রথম ৪০০-১১০০ কোটি নেট কালেকশন এর ল্যান্ডমার্ক পার করেছে সিনেমাটি। 
* প্রথম ভারতীয় সিনেমা যা ১০০০-১৪০০ কোটি গ্রোস কালেকশন শুধু ভারতেই করার রেকর্ড করেছে। 
* ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ওপেনিং ডে কালেকশন। অল ইন্ডিয়া ১২০ কোটি+ নেট গ্রোস কালেকশন তুলেছিলো এই সিনেমা। 
* প্রথম ভারতীয় সিনেমা যা ২০০-৬০০ কোটি শেয়ার কালেকশন এর ল্যান্ডমার্ক পার করেছে। 
* প্রথম ভারতীয় সিনেমা যা ৩০০-৮০০ কোটি ওয়ার্ল্ডওয়াইড শেয়ার বেঞ্চমার্ক পার করেছে। 
* ভারতের কেরালা ব্যাতিত প্রতিটি রাজ্যে অল টাইম হায়েস্ট কালেকশন তোলার অল টাইম রেকর্ড। ও ১৩ টি টেরিটোরিতে অল টাইম রেকর্ড। 
* ভারতীয় সিনেমা হিসাবে নেপাল, USA, UAE, অস্ট্রেলিয়াতে হায়েস্ট কালেকশন তোলার রেকর্ড। 

* প্রথম ইন্ডিয়ান সিনেমা যা শুধুমাত্র USA তে ১০০ কোটি+ গ্রোস তুলেছে। 
* প্রথম সিনেমা যা মুম্বাই টেরিটোরিতে ১৫০ কোটি+ নেট কালেকশন তুলেছিলো।
* এই শতকের সবচেয়ে বড় ব্লকবাস্টার এবং ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে ডমেস্টিক মার্কেটে দ্বিতীয় বিগেস্ট হিট [শোলে(১৯৭৫) সিনেমার পর]
* প্রথম ভারতীয় সিনেমা যা ১০ দিনেই ১০০০ কোটি ক্লাবে ঢোকে। সিংগেল ডে হায়েস্ট কালেকশন এর টপ চার্ট এই সিনেমার দখলে। 
* ৩ দিনের উইকেন্ডে ৩০০ কোটি নেট কালেকশন। 
* ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে রেকর্ড ব্রেকিং এডভান্স বুকিং (৫০ কোটির বেশি)
* এই সিনেমা টিভিতে অল টাইম বিগেস্ট হিট। প্রিমিয়ার ইম্প্রেশনে হিন্দী ভার্শনে এখনো অল টাইম রেকর্ড ধরে রেখেছে। তেলুগু, তামিল, কান্নাডা ও মালায়ালাম ভার্শনেও প্রিমিয়ার রেকর্ড করেছিলো সে সময়। 
শুধুমাত্র হিন্দীতেই এই সিনেমা ১৩ কোটি ইম্প্রেশন এসেছে এযাবৎকালে। 
সব ভাষা মিলে ২৫ কোটি ছাড়াবার কথা। 
* গুগোলে ২০১৭ এর সবচেয়ে বেশি Searched ও টুইটারে সবচেয়ে বেশি হ্যাশট্যাগ টপিক, উইকিপিডিয়াতে সবচেয়ে বেশি সার্চড হওয়া বিষয় বিশ্বব্যাপী ও ওয়ার্ল্ডওয়াইড টুইটারে ৭ম হায়েস্ট সার্চড টপিক। 
* ইন্ডিয়ান সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবসাসফল ও হায়েস্ট গ্রোসিং ফ্রাঞ্চাইজি। যার দুই পার্ট ই অল টাইম ব্লকবাস্টার। 
* তেলেংগানায় ৪০০০ রুপিতে টিকিট সেলের ও ঘটনা ঘটেছে কিছু যায়গায় যা ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সর্বচ্চ টিকিট প্রাইস। 
* Book My Show এর রিপোর্ট মতে তারা বুকিং চালু করার পর গড়ে প্রতি ১২ সেকেন্ডে এক একটি টিকিট সেল হয়েছে। এত চাহিদা ভারতের আর কোনো সিনেমায় হয়নি। 
* গিনেজ রেকর্ড – ৫০০০ স্কয়ার ফিট পোস্টার এর জন্য। 
* শোলের জবাব। 
শোলে(১৯৭৫) সালে সাউথ টেরিটোরিতে এসে ইন্ডাস্ট্রি হিট হয়ে গিয়েছিলো। তৎকালে সাউথ টেরিটোরিতে ৬.৫০ কোটির বেশি গ্রোস কালেকশন তুলেছে সেই আমলে। যখন তাদের নিজস্ব ইন্ডাস্ট্রি হিট সিনেমা এত কালেকশন তুলতে ব্যর্থ ছিল। যদিও শোলে হিন্দীতেই কামিয়েছে কোনো ডাবিং ভার্শন নয়। 
.
৪২ বছর পর হিন্দী মার্কেটে এসে বাহুবলী ২ তার জবাব দেয়। যখন বলিউড এখনো ৪০০ কোটি নেট কালেকশন দিতে ব্যর্থ তখন সাউথের ফিল্ম এসে হিন্দী ভার্শনে প্রথম ৫০০ কোটি কালেকশন দেয়।
* সাউথের ১১ টি স্ক্রীনে ১ কোটির উপরে কালেকশন তোলার রেকর্ড। এমন রেকর্ড ভারতে আর নেই৷

কোথায় হারিয়ে গেল সেই প্রভাস?

বাহুবালীর পর থেকে প্রভাসের সেই লুক,ফিটনেস,এক্সপ্রেশন আর বাহুবালীতে করা দুর্দান্ত এনার্জেটিক এক্টিং স্কিল সব হারিয়ে গেছে।
প্রভাস যেমন পেয়েছিল রাজামৌলীর মত ডিরেক্টর তেমনি বাহুবালী দুই পার্ট এর জন্য প্রচুর ডেডিকেশন নিয়ে কাজ করেছিল।নিজেকে যেন চরিত্রের জন্য উৎসর্গ করে দিয়েছিল।বাহুবালীতে সে এতটাই পরিনত ছিল আর এতটাই মানিয়ে নিয়েছিল যে এই চরিত্রে যেন প্রভাসকে ছাড়া দ্বিতীয় কাউকে কল্পনা করা যায় না।
কি দুর্দান্ত এক্টিং আর ফিটনেস ছিল প্রভাসের বাহুবালীতে।
বাহুবালী শেষ এদিকে প্রভাসও যেন হারিয়ে গেল।সাহো সিনেমাতে যেন তার আগের দুই সিনেমার এক্টিং এর ছিটোফোটাও পেলাম না।মনে হচ্ছিলো প্রভাসকে কেউ জোর জবরদস্তি করে অভিনয় করাচ্ছে।এনার্জেটিক এক্টিং কোন জায়গাই ই ই পেয়েছিলাম না।লুক এর অবস্থাও দেখলাম বেশ খারাপ হয়ে যাচ্ছে।আর এই সিনেমায় প্রভাসের হিন্দি ছিল পুরাই লো ক্লাস।
তারপর আসলো রাধেশ্যাম।এখানে প্রভাসের এক্টিং,এক্সপ্রেশন,ডায়লগ ডেলিভারী সব এতটাই দূর্বল ছিল যেন মনে হচ্ছিলো প্রভাসকে ঘুমন্ত অবস্থা থেকে সবেমাত্র উঠে এসে ক্যামেরার সামনে দাড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে আমি বিষয়টা ভালোভাবে বোঝার জন্য রাধেশ্যাম হিন্দির পাশাপাশি প্রভাসের নিজস্ব স্টেটের ভাষায় সিনেমাটা দেখলাম।সেখানেও সেই একই অবস্থা ডায়লগ ডেলিভারি দূর্বল তবে হিন্দির চেয়ে কিছুটা বেটার ছিল।

আর এই সিনেমায় তো প্রভাসের লুক আর্টিফিসিয়ালভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে সুন্দর করা হয়েছে।

বর্তমানে প্রশান্ত নীলের সাথে সালার সিনেমার শুটিংয়ের কিছু লিক ছবি আর ভিডিও দেখলাম।ভাইরে ভাই সেখানেও প্রভাসের লুকের অবস্থা অনেক বেশী খারাপ।এভাবে চলতে থাকলে ক্যারিয়ার ধ্বংস হতে সময় লাগবে না।
এখন প্রভাসকে ঠিকঠাক লুক ফিটনেস এক্টিং এবং ফ্রেস একটা স্কৃিপ্ট নিয়ে কামব্যাক করা উচিৎ।

তবে সালার নিয়ে আমি আশাবাদী।

Leave a Comment

Total Views: 646

Scroll to Top