Wakanda Forever Movie Review

ওকান্ডা ফরেভার মুভি রিভিউ, ব্লাক প্যান্থার ২ মুভি

One More Almost Perfect Marvel’s Cinematic Episode Wakanda Forever #NoSpoiler …… মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের ৩০তম সিনেমা ‘ওয়াকান্ডা ফরেভার’ মুক্তি পেল আজ ১১ নভেম্বর। MCU মুভির স্টোরি টেলার ও ডিরেক্টর প্রায়শই খুব বিপদের মধ্যে থাকেন।

কারণ প্রথমত তাদের দায়িত্ব হল- সিরিজ স্ট্রাকচারের মত আগের পর্বে যা দেখানো হয়েছে, তার যোগসূত্র রেডি করা; আবার পরের পর্বে কি কি ঘটবে তার ইঙ্গিত বহন করা। এই দুটো প্রধান কাইটেরিয়া পূরণ হবার পর মূল মুভিতে দেখানো গল্পটিকে সুন্দর করে প্রেজেন্ট করা। তারসাথে ডিজনি স্টুডিওর বেঁধে দেয়া PG 13 রেটিং, আমেরিকান লিবারেল পলিসির অন্তর্গত কিছু সোশিও পলিটিক্যাল বিষয়বস্তু যেমন উইমেন এম্পাওয়ারশিপ, LGBTQ, People of Color ইত্যাদি কমিউনিটি সংযুক্ত করণ,

ফ্যামিলি ফ্রেন্ডলি অডিয়েন্সকে কিছুক্ষণ পরপরেই হয় হাসিতে ভাসানো নয়তো ইমোশনে কাঁদানোর ফর্মুলা ফলো করা !! বিগত ১৪ বছরে হাতে গোণা অল্প কিছু নির্মাতা MCU’র এতসব ফর্মুলা ফলো করার পরেও একটা জম্পেশ, ফুল অন এন্টারটেইনিং, কমপ্লিট ক্যারাক্টার আর্ক তৈরী করে পারফেক্টলি মুভি উপহার দিয়েছেন।

রুশো ব্রাদার্স, জেমস গান, জন ওয়াটস তেমনি কিছু ডিরেক্টর। আবার ১ম মুভিটি পারফেক্টলি বানিয়ে বাকিগুলোতে কম্প্রোমাইজ করতে বাধ্য হয়েছেন এমন ডিরেক্টরও কম নয়। জন ফ্যাবু, জশ উইডেন, টাইকা ওয়াটিটি এই ক্যাটাগরিতে পড়বেন। তাহলে এবার প্রশ্ন Black Panther নির্মাতা রায়ান কুগলার কোন ক্যাটাগরিতে পড়েন? চলুন একসাথে খুঁজে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি। .

blind Korean Series Review

Black Panther এর ১ম কিস্তি অস্কারে সেরা মুভির নমিনেশন পাবার পরপরেই ২য় মুভির গল্প লিখতে শুরু করেছিলেন র‍্যায়ান কুগলার। এরমাঝে এল প্যান্ডোমিক, এবং প্যান্ডোমিকের মধ্যেই বিদায় নিলেন চ্যাডউইক বোজম্যান। MCU ও Disney পলিসির বাইরেও এবার তাঁর উপর অর্পিত হল কিং টিচালার লিগ্যাসিকে সঠিকভাবে বিদায় জানাতে হবে।

চ্যাডউইক চিরবিদায় নেবার পরপরেই কেভিন ফাইগি ঘোষণা করেছিলেন কিং টিচালাও MCU তে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি জানিনা, ফাইগি এই ঘোষণা দেবার আগে কুগলারের সাথে আলোচনা করেছিলেন কিনা; তবে বিশ্বজুড়ে ফ্যানদের বড় একটা অংশ টিচালাকে রিকাস্ট করার জন্য হ্যাশট্যাগও চালিয়েছিলো। অতএব, রায়ান কুগলারের ওপর মৃত বন্ধুকে চিরবিদায়ের পাশাপাশি ফ্যানদের ইচ্ছার প্রতি খেয়াল রাখার দায়িত্ব পড়েছে। এই সবকিছু মিলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে MCU’র সবচেয়ে কঠিন গল্প লিখার কাজটি ছিল Wakanda Forever এর স্ক্রিপ্ট।

. এই কঠিন কাজটিকে সহজ করতে রায়ান কুগলার বেছে নিয়েছেন ২টি চমৎকার এস্কেপ রুট ১) ক্যারাক্টার এক্সপোজিং ২) ইমোশন . Wakanda Forever এ একেবারেই ২টি নতুন কিন্তু রিচ কমিক হিস্ট্রির ক্যারেক্টার এসেছে। রিরি উইলিয়ামস এ কে এ Iron Heart এবং মার্ভেলের আটলান্টিসবাসী এন্টি হিরো Namor. এতদিনে MCU অডিয়েন্সরা জানে, কমিকের মত হুবহু অরিজিন বা স্টোরি টেলিং হয় না মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সে। ক্ষেত্র বিশেষে পুরো কমিক ক্যারাক্টারের লিঙ্গ, ভাষা, জাতি পালটে দেয়া হয়েছে নানা মুভিতে। রিরি ও নেমরের ক্ষেত্রেও ওয়াকান্ডা ফরেভার মুভিতে হুবহু কমিককে ফলো করা হয় নি। কমিকের বেসিক ইন্সপায়ার রেখে, প্রায় পাল্টে দেয়া এই দুটি চরিত্রের স্ট্রাকচার।

ফলে দর্শক হিসেবে এই দুজনের প্রতি আলাদা মনোযোগ দিতে হয়েছে আমাদের। তারা কে? কোথা থেকে এসেছে? তাদের মোটিভ কি? তাদের পাওয়ার কি? মুভির গল্পের শুরুতে তাদের ক্যারাক্টার আর্ক কেমন ছিল? আর মুভি শেষে তাদের মধ্যে গ্রোথ কেমন হয়েছে? আগামি দিনে MCU তে তাদের কিভাবে দেখা যেতে পারে? —- এই সব কিছু খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন রায়ান কুগলার।

এই অংশে আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে মুভির নানা ক্যারাক্টারের চোখে জগৎ দেখানো। ওয়াকান্ডাকে আমরা এর আগে যতটুকুই দেখেছি, তাদের বর্তমান অবস্থানের ব্যাপকতা, তাদের শক্তি-দুর্বলতা এগুলো নিয়ে ডিটেলস মুভির গল্পে যেমন বহির্বিশ্ব কম জানে, তেমনই কম জানি আমরা। ফলে রিরি উইলিয়ামস যখন ওয়াকান্ডায় আসে তখন সে আমাদের একজন। তার চোখে যা দেখানো হয়েছে, তার কানে যা শোনানো হয়েছে অডিয়েন্সও তাই জেনেছে, দেখেছে, শুনেছে।

একই কথা খাটে নেমরের জগৎ সম্পর্কে। মার্ভেল কমিক্সের ১ম দুই হিরোর একজন হলেও মুভির ক্যারাক্টার হিসেবে অনেক পরে এলেন তিনি। ইতোমধ্যেই ডিসি তাদের আন্ডার ওয়াটার হিরোর দুনিয়া দেখিয়ে ফেলেছে খুবই বিশাল আকারে। আপকামিং এভাটার ২তেও জেমস ক্যামেরন পানির জগতকে নতুন রূপে আবিষ্কার করবেন। এই অংশে দাঁড়িয়ে Wakanda Forever এ দেখানো সামুদ্রিক তলদেশের জগৎ আমার কাছে সবচেয়ে ইউনিক ও বাস্তবসম্মত মনে হয়েছে। সমুদ্রের অত গভীরে সূর্যের আলো পৌঁছায় না। ফলে এতদিন ধরে নানা মুভি/এনিমেশনে দেখানো ঝলমলে পানির দুনিয়ার বদলে রায়ান কুগলার দেখিয়েছেন রিয়েলিস্টিক ডার্কার লার্জার শ্যাওলা ধরা ভার্সন। সত্যি এই মুভি কিছু কিছু দৃশ্যে এতটা ডার্ক হয়ে যায় যে, যারা হল প্রিন্টে মুভিটা দেখছেন তারা তেমন কিছুই বুঝতে পারবেন না। একেবারেই পানির নিচের আটলান্টিস না বলে নেমর ও তার বাহিনীকে বলা হয়েছে ‘টালকোনিজ’। যাদের অরিজিন সমুদ্রপৃষ্ঠের স্প্যানিশ কালচারের সাথে যুক্ত। স্পয়লারের ভয়ে আমি ডিটেলস বলছি না। … চ্যাডউইক, কিং টিচালা, নতুন ব্ল্যাক প্যান্থার: চ্যাডউইক বোজম্যান দীর্ঘদিন ধরে কোলন ক্যান্সারে ভুগলেও তার সম্পর্কে বাইরের কেউ জানতো না। ফলে তাঁর অকাল মৃত্যু পুরো দুনিয়াকে শক করে দিয়েছিলো।

Wakanda Forever এও কিং টিচালার মৃত্যুকে এক রহস্যময় রোগে আক্রান্তের কারণে বলা হয়েছে। Black Panther এর জীবনিশক্তি আসে ওয়াকান্ডান হার্ব থেকে। যা পান করে তারা অ্যাঞ্চেষ্টার প্লেনে পূর্বসূরীদের সাথে সাক্ষাৎ করতে যায়। গত মুভিতে ডটেট প্যান্থার কিলমংগার সব হার্ব পুড়িয়ে দিয়েছিলো। ফলশ্রুতিতে টিচালা যখন অসুস্থ হল, তাকে হার্ব পান করিয়ে ভাল করার মত কিছু ছিল না। শেষ চেষ্টা হিসেবে সুরি কৃত্রিম উপায়ে হার্ব তৈরীর চেষ্টা করে, কিন্তু ব্যর্থ হয় সে। এবং টিচালা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ভাইকে বাঁচাতে না পারার দুঃখ ক্ষোভে সুরির বহির্বিশ্বের উপর চাপা একটা অভিমান দেখি আমরা। হয়তো টিচালা বাইরের জগতের সংস্পর্শে আসার কারণেই কোন এক অজানা ভাইরাসের শিকার হয়েছিলো। আমাদের তা বলা না হলেও, অনুমান করি সাম্প্রতিক প্যান্ডোমিক? . মুভির গল্পটায় খুব বেশি প্যাঁচ রাখেন নি রায়ান কুগলার। এক কথায় বলতে গেলে – ওয়াকান্ডান রাজ্যের চিরাচরিত প্রটেক্টর না থাকায় নানা দেশের কু নজর পড়েছে।

প্রায়শই নানা দিক থেকে আক্রমণ আসে। এসব আক্রমণে ওয়াকান্ডানবাসি নাজেহাল হয়ে পড়ে। তাদের আদি প্রটেক্টর ব্ল্যাক প্যান্থারকে আবার ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এই অংশে কোন রকম স্পয়লার না দিয়ে আমি এক কথায় বলবো- যতটা সম্ভব সিমপ্লিস্টিক ভাবে ব্ল্যাক প্যান্থারকে হ্যান্ডেল করা হয়েছে। টিস্যু দিয়ে চোখ মুছিয়ে মুছিয়ে বারবার আমরা আমাদের কিং টিচালা কে বিদায় জানিয়েছি। অন্যদিকে টিচালার ব্ল্যাক প্যান্থারের মত একটা কমিক রিচ হিস্টোরিকেও একটা মুভিতে শেষ করে দেয়া হয় নি। আর কিছু বলছি না, একটাই মিড ক্রেডিট সিন আছে। দেখলে বুঝবেন। . Wakanda Forever এর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ২টি বিষয় ছিল মিউজিক ও সিনেমাটোগ্রাফি।

আগেই বলেছি খুবই ডার্ক টোনে তৈরী হয়েছে মুভিটি। টিপিক্যাল মার্ভেল কমেডির হালকা ছোঁয়া ছিল, তবে তা পরিমিত। ভিজুয়ালি এতটাই এজি ও গ্রিটি যে কয়েকবার মনে হয়েছে ডেডপুলের মত জিজ্ঞাসা করি, are u from DC Universe? মিউজিক ও বিজিএম রোম খাড়া করার মত হয়েছে। বিশেষ করে ডোরা মিলাজি ও টালকোনিজ সেনাদের ওয়ার হুইসেল এখনো মনে হচ্ছে কানে বাজছে আমার। এখানে আক্ষরিক অর্থেই শ্রেষ্ঠতম কাজটি করেছেন এই অংশে টেকনিক্যাল আর্টিস্টরা। . তবে কি Wakanda Forever একদম পার্ফেক্ট মুভি? না, একেবারেই নয়। মুভিতে ফ্লজ আছে। এবং সেটা ক্লাইম্যাক্সে। ক্লাইম্যাক্স বেশ কিছুটা লো পয়েন্টে এক্সিকিউট হয়েছে; অনেকটাই আরোপিত মনে হয়েছে প্রধান ২ চরিত্রের আচরণ।

যেন পরের মুভিতে তাদের এমন দেখিয়েই পুশ করতে হবে, তাই রায়ান কুগলার অনেকটা জোর করে তাদের মোটিভকে পাল্টে দিয়েছেন। ব্যাপারটা স্মুথ মনে হয় নি। . মজার বিষয়টা হচ্ছে রায়ান কুগলার জানেন তার ক্লাইম্যাক্স অতটা ভাল হয় নি। তাই তিনি বিগ ফাইটের পরেই মুভিটা শেষ করে দেন নি। ক্ল্যাইম্যাক্স ফাইটের পর আরো মিনিট দশেকের বেশি দর্শককে টেনেছেন ইমোশনে। যদি আপনি মিড ক্রেডিট না দেখেই হল থেকে বেরিয়ে যান তখনো চ্যাডউইককে স্মরণ করেই অশ্রু মুছতে মুছতে বের হবেন।

যেন রায়ান কুগলার তীক্ষ্ণ নজরদারি অডিয়েন্সকে বলছেন- কিং চ্যাডউইক কে স্ক্রিনে দেখা শেষ মুভিটা অতটা মগজ খাটিয়ে না দেখে একটু মন দিয়ে ফিল করুন। এমনটা হল কেন? অই চরিত্র গেল কই? এই চরিত্র এমন করছে কেন?— এসব উত্তরের জন্য MCU’র পরের প্রজেক্টে চোখ রাখুন। Wakanda Forever টা দেখুন শুধু মাত্র চ্যাডউইক বোজম্যানের জন্য। # স্পাইডারম্যান নো ওয়ে হোম মুভিতে যা কিছু ঘটতে পারে? রায়ান কুগলারের এই আত্মসচেতনতার জন্যই আমি ওনাকে MCU’র পার্ফেক্ট ডিরেক্টরদের তালিকায় রাখবো। আপনি কোন ক্যাটাগরিতে রাখবেন? Wakanda Forever Movie Review

Leave a Comment

Total Views: 493

Scroll to Top