দ্য ব্যাটেল অফ থার্মপলি - ইতিহাস এর একটি অজনপ্রিয় যুদ্ধ

Disclosure: This content is reader-supported, which means that if you click on some of our links. then we may earn a commission.
#Ancient_History
দ্য ব্যাটেল অফ থার্মপলি
থার্মপলির যুদ্ধ হয় খ্রীষ্টপূর্ব ৪৮০ সালে।
থার্মপলি মানে হল গরম প্রবেশদ্বার। এটা
একটা গিরিপথ যার এক পাশে
পাহাড়শ্রেনী ও অন্যপাশে এজিয়ান
সাগর। এই গিরিপথ খুবই সরু।
    গ্রীকরা আশা
    করেছিল এই পথেই তারা বিশাল পারস্য
    বাহিনী কে তারা আটকাতে পারবে। 300
    নামক মুভিতে আমরা এই যুদ্ধ দেখতে পাই।
    এই যুদ্ধ হয় গ্রীক(স্পার্টান এবং অন্যরা)
    আর পারসিয়ান দের মধ্যে । পারস্যের
    রাজা ছিল জারক্সিস। রাজা প্রথম
    জারক্সিস প্রাচীন আকামেনিদ
    সাম্রাজ্যের চতুর্থ শাসক ছিলেন।
    ইউরোপীয়দের নিকট জারক্সিস নামে
    পরিচিত হলেও প্রাচীন ফারসি ভাষায়
    তার নাম ‘খাসাইয়ার শাহ‘।জারক্সিস ছিল
    বিখ্যাত পারসিয়ান রাজা দারিয়ুস এর
    পুত্র। খ্রীষ্টপূর্ব ৫১৯ সালে তার জন্ম।
    পৈতৃক সুত্রে তিনি বিশাল সাম্রাজ্যের
    মালিক হন। কিন্তু পৈতৃক সুত্রে পাওয়া
    সাম্রাজ্যে তিনি খুশি ছিলেন না। তার
    ইচ্ছা ছিল পুরো বিশ্বজয় করার।
    সেক্ষেত্রে তার প্রথম নজর ছিল গ্রীস
    যেটা জয় করতে যেয়ে তার বাবা ব্যর্থ
    হয়ে ফিরে আসে।
    গ্রিস জয়ের জন্য জারক্সিস বিশাল
    বাহিনী গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন ।
    চার বছর ধরে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে
    সামর্থ্যবান যুবক ধরে এনে ভর্তি করা হয়
    সেনাবাহিনীতে । এমনকি সাম্রাজ্যের
    অধীনস্থ রাজপরিবার ও রক্ষা পায়নি।
    জারক্সিসের পুরোহিতেরা এই যুদ্ধ তার
    জন্য শুভ হবেনা এটা ভবিষ্যৎবাণী করে
    কিন্তু জারক্সিস সেসব কথা কানে না
    নিয়ে গ্রীসের পথে পা বাড়ায় ।
    বিশাল বাহিনী নিয়ে হাজার হাজার
    নৌকা নোঙ্গর ফেলতে লাগল গ্রীসের
    উপকূলে। ইতিহাসবিদ হেরোডটাস এর মতে
    পারস্য বাহিনীতে প্রায় ২ মিলিয়ন সৈন্য
    ছিল। তারা এথেন্সের পথে রওনা হয় ।
    পথে গ্রীক সৈন্যদের সাথে তার দুইটা যুদ্ধ
    হয় সেখানে গ্রীকরা পরাজিত হয়। এথেন্স
    পারস্যের দখলে আসে। যুদ্ধের পর যখন
    পারস্য শিবিরে আনন্দ উদযাপন হচ্ছিলো,
    ঠিক তখন শিবিরের শেষ তাবুতে এক
    ব্যক্তি চিন্তিত মনে একা বসে আছে।
    দ্য ব্যাটেল অফ থার্মপলি
    (image source: Wikipedia, Thoughtco, history.Com)
    তার নাম দেমারাতাস। সে ছিল এক গ্রিক
    নাগরিক। সে গ্রিস থেকে বিতাড়িত হলে
    জারক্সিস তাকে আশ্রয় দিয়েছিল। সে
    গ্রীকদের ঘৃণা করত । কিন্তু জন্মভূমির এই
    পতন তার সহ্য হল না । সে একটি কাঠের
    টেবিলের উপরিভাগে খোদাই করে
    জারক্সিসের সম্পূর্ণ পরিকল্পনা এবং
    পারস্য বাহিনীর দুর্বলতা সম্পর্কে
    জানিয়ে একটি পত্র রচনা করলো। তারপর
    সে ঘন মোমের প্রলেপ দিয়ে সেটি
    আচ্ছাদিত করে এক প্রহরীর মাধ্যমে
    গ্রিক শিবিরে প্রেরণ করে দেয়।
    ৪৮০ খ্রিস্টপূর্বের ২৩ সেপ্টেম্বর
    পারস্যদের সাথে গ্রিক বাহিনী
    লিওনাইডাস নামক এক স্পার্টান রাজার
    অধীনে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। দেমারাতাসের
    নির্দেশ মতো গ্রিকরা প্রায় দুইশত
    জাহাজ নির্মাণ করে সেদিন যুদ্ধে
    ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। জারক্সিসের
    পরিকল্পনা গ্রিকদের কাছে ফাঁস হয়ে
    যাওয়ায় মনস্তাত্ত্বিকভাবে গ্রিকরা
    যুদ্ধে এগিয়ে ছিল। গ্রিক নৌবাহিনীর
    সাথে পারস্যের নৌবাহিনীর সরাসরি
    যুদ্ধ লেগে যায়। যুদ্ধের একপর্যায়ে
    গ্রিকরা ইচ্ছে করে পিছু হটতে থাকলে
    জারক্সিস উল্লাসে ফেটে পড়েন। তিনি
    ভেবেছিলেন গ্রিকরা পরাস্ত হয়েছে।
    কিন্তু ওদিকে সুকৌশলে গ্রিকরা পারস্য
    নৌবাহিনীকে গ্রিক উপসাগরে প্রবেশ
    করিয়ে কোণঠাসা করে ফেলছিলো।
    কয়েক মুহূর্ত পরে কোনো কিছু বুঝে উঠার
    পূর্বে ভূমধ্যসাগরীয় বায়ু তার দিক
    পরিবর্তন করে বিপরীত দিকে বইতে শুরু
    করলে হতবিহ্বল হয়ে পড়ে হাজার হাজার
    পারস্য জাহাজ। বাতাসের তীব্রতার
    কাছে হার মানে লক্ষ লক্ষ পারসি সেনা।
    প্রকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে আক্রমণ
    করতে থাকে গ্রিকরা। এক রক্তক্ষয়ী
    যুদ্ধে প্রাণ হারাতে থাকে পারসি
    সেনারা। রাজকন্যা আরতেমিসিয়া
    যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করে। সেদিন
    গ্রিকদের বুনো চিৎকারের কাছে
    ম্রিয়মাণ হয়ে পড়ে প্রজ্বলিত জারক্সিস
    বাহিনীর দুর্ধর্ষতা। সেদিন মাত্র কয়েক
    হাজার পারসি সেনা প্রাণে বেঁচে ফিরে
    আসতে সক্ষম হয়েছিলো। যুদ্ধের ভয়াবহতা
    অবলোকন করে সভাসদদের পরামর্শ
    অনুযায়ী জারক্সিস মারদোনিয়াসকে
    পুরো বাহিনীর দায়িত্ব প্রদান করে
    নিজে পারস্যে পালিয়ে যান।
    এভাবে বিশাল পারস্যবাহিনী গ্রীকদের
    কাছে পরাজিত হয়।

    battle of tharmopoly
    (image source: Wikipedia, Thoughtco, history.Com)
    এছাড়াও 
    পশ্চিমারা একটা জিনিস এড়িয়ে যায়,
    দারিয়ুস বিনা কারনে গ্রীকদের আক্রমণ
    করেনি।এথেন্সের নেতৃত্বে গ্রীকরা,
    পারস্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত
    এনাটোলিয়ার প্রদেশগুলিকে বিদ্রোহ
    করতে উস্কে দিচ্ছিল।তাই এই ব্যবস্থা।
    তাছাড়া থার্মোপলির যুদ্ধের সৈন্য
    সংখ্যা হেরোডোটাস সাহেব যে বহুগুণ
    বাড়িয়ে বলেছিলেন তা বোঝা
    যায়,বর্তমানে ধরা হয় লাখের কিছু বেশী
    ছিল পারস্য সৈন্য।
    থার্মোপলিতে জেতার পরই ভাগ্য খারাপ
    হতে শুরু করে।ব্যাবিলন থেকে হাজার
    মাইল দূরে সংঘবদ্ধ গ্রীকদের সাথে
    এজিয়ান সাগরে যুদ্ধ করা পারসীয়ানদের
    পক্ষে কঠিন ব্যাপার ছিল।সালামিস
    দ্বীপে পারসীয়ান রণতরীগুলির সলিল
    সমাধি হলে মনে হয় জারক্সিসও আশা
    করেনি আর পশ্চিমে আগানো যাবে।তবে
    গ্রীকরাও পারস্য সাম্রাজ্যের ভেতর
    বিদ্রোহ ঘটানোর চেষ্টা করেছিল যা
    সফল হয়নি।
    '300' মুভিটা যে কি পরিমাণ
    প্রোপাগান্ডার সমষ্টি তা না ঘাটলে
    বোঝা মুশকিল।পশ্চিমারা ফ্রীডমের
    প্রতিক বানালো গ্রীকদের আর সাক্ষাৎ
    শয়তান বানালো পারসীয়ানদের।
    অথচ
    খ্রিস্টপূর্ব ৪৮০ অব্দে স্পার্টা, এথেন্সে
    দাসপ্রথা ছিল,পারস্যে ছিল না।পারস্য
    সাম্রাজ্যে আইন কানুন ছিল, একটা
    ফেডারেল সরকারের মত গঠন ছিল।
    স্পার্টা,এথেন্সের মত দ্বীপরাষ্ট্রগুল
    ো এসময় এজিয়ান সাগরের বাকি
    দ্বীপগুলোকে জয় করে সেখানে যে
    নারকীয়তা দেখিয়েছে তা পারস্যে
    কোথাও সম্ভব ছিল না।
    Disclosure: This post May contains affiliate links that support our Blog. When you purchase something after clicking an affiliate link, we may receive a commission. Also Note That We Are Not Responsible For Any Third-party Websites Link Contents

    Post a Comment

    আপনাদের কোন কিছু জানার থাকলে আমাদের কে কমেন্ট করে জানাতে পারেন ।



    if you have something to say, “Please Comment your Opinion ” Thank You.