Blood Diamond Movie Review - ব্লড ডায়মন্ড মুভি রিভিউ

Disclosure: This content is reader-supported, which means that if you click on some of our links. then we may earn a commission.
✪ সিনেমার নামঃ Blood Diamond

✪ মুক্তির সাল: ২০০৬ / 2006

নির্মাণব্যয়: $100 মিলিয়ন ডলার

ভাষা: ইংলিশ ও আফ্রিকান / English

আয়: $171 মিলিয়ন ডলার

✪ ব্লড ডাইমন্ড মুভি রিভিউ

ব্লাড ডায়মন্ড কাকে বলে? যে ডায়মন্ড এর জন্য যুদ্ধ হয়, যে ডায়মন্ড বিক্রির টাকা দিয়ে যুদ্ধের অস্ত্র কেনা হয়, যে ডায়মন্ডের জন্য মানুষকে অস্ত্রের মুখে দাস বানিয়ে দিন রাত অমানুষিক খাটুনি করানো হয়। তার নামই ব্লাড ডায়মন্ড।

=========================

পশ্চিম আফ্রিকার একটি দেশ সিয়েরা লিওন । বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনেক সৈন্য জাতীসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় সে দেশটিতে বর্তমানে অবস্থান করছে । আমাদের দেশের সৈন্যবাহিনীর বিভিন্ন অবদানে বর্তমানে সিয়েরা লিওনে বাংলা তাদের দ্বিতীয় মাতৃভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শুধু তাই নয় সিয়েরা লিওনের অধিবাসীরা আমাদের সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরুপ তাদের দেশে একটি রাস্তার নাম বাংলাদেশ হিসেবে রেখেছে। যার ফলে আমাদের অনেকের কাছেই এই দেশটির নাম বেশ পরিচিত।

এবার মুল মুভি রিভিউ এ চলে যাই

সিয়েরা লিওনের অর্থনীতি সামগ্রিকভাবে এর প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে, হীরা বা ডায়মন্ড এই দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। এছাড়াও রয়েছে অন্যতম পণ্য টাইটানিয়াম ও বক্সাইট । অন্যান্য প্রধান পণ্য হিসেবে রয়েছে সোনা, এবং রয়েছে রুটাইল এর পৃথিবীর বৃহত্তম মজুদের একটি অংশ। কিন্তু, এত মহা মূল্যবান সম্পদ থাকা সত্ত্বেও ভাগ্যের ফেরে, এই দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করে চলেছে নাজুক অবস্থা।

১৯৯১ থেকে ২০০১ সালে এই ১০বছর সিয়েরা লিওনে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয় । যেটা ছিল বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় গৃহযুদ্ধ। কিন্তু কী কারণে সংঘটিত হয়েছিল এই গৃহযুদ্ধ? জাতিগত বিদ্বেষ? নাকি অন্য কিছু? এর উত্তর হলো–উপনিবেশ প্রভাবিত শাসনব্যবস্থা? নাকি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা? সে যাই হোক ।

এই যুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হহয় এবং পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করে। কিন্তু কেন? অন্যদিকে এক দশক ধরে চলা এই যুদ্ধে নিখোঁজ হয়, প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার শিশু। কী ঘটেছিল এই নিষ্পাপ শিশুদের ভাগ্যে? এর বিস্তারিত জানা না গেলেও আপনি যখন এই ব্লড ডাইমন্ড মুভি দেখবেন তখন কিছুটা ধারণা পেয়ে যাবেন।

পাপুয়া নিউ গিনিয়া এবং লাইবেরিয়ার সীমান্তে সিয়েরা লিওনের হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করে শরনার্থী হিসেবে। কিন্তু কেন? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক গ্রেগ ক্যাম্বেল সিদ্ধান্ত নেন সরেজমিনে দেশটিতে যাবেন সশরীরে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তিনি সিয়েরা লিওনে যান ২০০১ সালে। যাওয়ার পর দেশটির করুন অবস্থা দেখে তিনি রীতিমতো চমকে উঠেন! পথে প্রান্তরে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে যুদ্ধের চিহ্ন বহন করছে না।

তিনি দীর্ঘদিন সরেজমিনে তদন্ত এর পর তার অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০০২ সালে একটি বই প্রকাশ করেন । যে বইটির নাম ছিল, "Blood Diamond – Tracing the deadly path of the world’s most precious stones"... হ্যাঁ, অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তিনি তার প্রশ্নগুলোর উত্তর পেয়েছিলেন, যা তিনি লিপিবদ্ধ করেন তার লিখা এই বইটিতে।

এই বইটির পটভূমিতেই চার্লস লিভিট লেখা শুরু করেন একটি সিনেমার চিত্রনাট্য এবং ২০০৬ সালে সেই চিত্রনাট্যের ভিত্তিতে পরিচালক এডওয়ার্ড জিকে নির্মাণ করেন "Blood Diamond" সিনেমাটি । যা তুলে আনে কর্পোরেট বেনিয়াদের ব্যবসায়ের আড়ালে নির্মমতার চাদরে ঢাকা গোপন একটি অধ্যায়! 

মূল্যবান হীরা কিংবা ডায়মন্ডের প্রতি মানুষের আদিমকাল থেকেই মানুষের তীব্র আকর্ষণ রয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে, কর্পোরেট বিজনেস টাইকুনদের কাছে সবচেয়ে দামী এবং মহামূল্যবান সম্পদের নাম হচ্ছে- হীরা! এখন প্রশ্ন এখন উঠতেই পারে, ছবিটির নাম ব্লাড ডায়মন্ড কেন?

এই মোহনীয় হীরা যে কত রক্তপাতের কারণ আপনি সেটা ঘুনাক্ষুরেও কল্পনা করতে পারবেন না! । হ্যাঁ বলা হয়ে থাকে মানুষ হচ্ছে পৃথিবী নামক এই গ্রহের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী । কিন্তু হীরার মতো ঝকঝকে এক পাথর খন্ডের কারণে কত মানুষের মূল্যবান প্রাণ যে ঝরে গেছে তার কোনো হিসাব নেই। তার মানে দাঁড়াচ্ছে, মানুষের জীবনের চেয়েও মূল্যবান হচ্ছে হীরা। হীরা বেশ দামি একটা পদার্থ । দুনিয়াতে মোট হীরার দুই তৃতীয়াংশ মজুদ রয়েছে রাশিয়া এবং আফ্রিকা মহাদেশে ।

আফ্রিকার অনেক দেশে অর্থনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে খনিজ সম্পদ, কিন্তু পরিমাণের সীমাবদ্ধতার কারণে তার মূল্য চিন্তার বাইরে। যার কারণে এই মহামূল্যবান সম্পদকে নিয়ে বিবাদ বা গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হবে, সেটা বলাই বাহুল্য। স্বাভাবিকভাবেই আফ্রিকার অনেক দেশেই গৃহযুদ্ধের মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে এই হীরার খনি গুলো।

 দূর্নীতি এবং আইন শৃংখলার অবনতির কারণে আফ্রিকার প্রায় প্রতিটি দেশেই গড়ে উঠেছে বিভিন্ন মাফিয়া এবং বিদ্রোহীগোষ্ঠী । যারা তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ফান্ডিং করে এই হীরা বিক্রয়ের মাধ্যমে। হীরার খনিগুলোর মালিনাকানা তাই এদের হাতেই সীমাবদ্ধ থাকে। প্রশ্ন করতে পারেন উন্নয়নশীল দেশগুলি এই যুদ্ধ থামাতে আসছে না কেন? কিংবা তাদের কি কোন স্বার্থের জন্য মুখ বন্ধ করে আছে?

এর জবাব খুব সহজ । উন্নত দেশগুলোর স্বার্থ হচ্ছে এখানে, অনেক কম মূল্যে তারা এই হীরা এসব জায়গা থেকে অবৈথ পন্থায় এই মাফিয়া গ্রুপগুলোর সাহায্যে নিয়ে আসতে পারে। এতে দুই পক্ষই লাভবান হচ্ছে। 

এক পক্ষ অল্প মূল্যে পাওয়া এই হীরে আকাশছোঁয়া দামে বিক্রি করছে সমাজের ধনকুবেরদের কাছে, আরেকপক্ষ পাচ্ছে মূল্যবান অস্ত্র। ফলাফল স্বরূপ, দুই পক্ষই তাদের নিজ নিজ স্বার্থের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই গৃহযুদ্ধ জিইয়ে রাখে। এতে কিছু সংখ্যক মানুষ লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্থ হয় অসংখ্য সাধারণ মানুষ। 

যারা জানে না হীরার মানে, যারা জানে তথাকথিত সভ্য দেশের মানুষগুলোর কূটচাল। তারা শুধু চোখের সামনে দেখে, পরিবারের প্রিয় মানুষটার মৃত্যু। তাদের সন্তানদের অপহরণ করে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিয়ে অল্প বয়সেই তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে অস্ত্র আর তাদের কে পাঠিয়ে দিচ্ছে যুদ্ধের ময়দানে ।

এই মূল্যবান ডায়মন্ড জোগাড়ের জন্য মানুষদের ধরে এনে দাস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে হীরার খনিগুলোতে। দিনরাত অমানুষিক ভাবে তাদের খাটানো হচ্ছে হীরা উত্তোলনে। কেউ হীরা তোলার কাজে অসম্মতি জানালে তার কপালে নেমে আসে মৃত্যু। সেজন্যই এই ডায়মন্ডের নাম দেয়া হয়েছে "ব্লাড ডায়মন্ড"। 

এই ব্লাড ডায়মন্ডকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো বেশ রোমহর্ষক এবং হৃদয়বিদারক, কারণ এতে জড়িয়ে আছে অসংখ্য মানুষের অশ্রু, দুঃখ এবং মৃত্যুর করুন গল্পগাথা। ঘটনার সময়কাল ১৯৯৯ সাল। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওনে হঠাত করে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিতে শুরু করে।

 সিয়েরা লিওনে সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন রেভল্যুশনারি ইউনাইটেড ফোর্স বা আরইউএফ হঠাত করে শেঞ্জি গ্রামে ভয়াল আক্রমণ চালায়। হীরার খনিগুলো থেকে হীরা উত্তোলন করতে হবে, আর তাতে শ্রমিক হিসেবে চাই মানুষ। অসংখ্য মানুষ লাগবে।

শুধু হীরাই না, যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে গেলেও মানুষের বিকল্প নেই। তাই আরইউএফ এই গ্রামে হামলা চালায় মানুষ অপহরণের জন্য। অনেককে অপহরণ করে হীরা উত্তোলনের কাজে লাগিয়ে দেয়া হয়, যারা একটু শারিরীকভাবে শক্ত সামর্থ্য তাদেরকে লাগিয়ে দেয়া হয় যুদ্ধের কাজে।

 ভাগ্যের ফেরে তাদের হাতে অপহৃত হয় সলোমন সলোমন (জিমন হানসো), বিদ্রোহী সংগঠনটি তাকে হীরা উত্তোলনের কাজে লাগিয়ে দেয়। সলোমন জানে না তার ছেলে দিয়া এবং তার পরিবারের অবস্থান। জানে না তারাও একইভাবে অপহৃত আছে কিনা। তার দৃড় বিশ্বাস, তারা ধরা পড়েনি। 

হয়তো তারা পালাতে পেরেছে শেষ পর্যন্ত। একদিন কাজের ফাকে সুযোগ বুঝে সলোমন একটা বড় আকারের হীরা লুকিয়ে ফেলে। হীরার আকৃতি দেখেই সলোমন বুঝে গিয়েছিল এর বাজারমূল্য কতোটা আকাশছোঁয়া হতে পারে! কৌশলে সে এটা লুকিয়ে ফেলে, পালাতে গিয়েও পালাতে পারে না। 

সেনাবাহিনী আর্মিতে আক্রমণ করে, অন্য সবার মতো সলোমনের ঠাই হয় জেলে। দৃশ্যপটে হঠাত করে এসে হাজির হয় ড্যানি আর্চার। এই ড্যানি আর্চারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন আমাদের সবার প্রিয় অস্কারজয়ী অভিনেতা লিউনার্দো ডি ক্যাপ্রিউ। জাতিতে সে আফ্রিকান হলেও শ্বেতাঙ্গ। তার পেশা হীরা পাচার করা। লুকিয়ে হীরা পাচার করতে গিয়ে সীমান্তে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে ড্যানি। কি আর করা? তারও ঠাই হয় জেলে।

 আর, ঠিক সেই জেলেই তার সাথে পরিচয় হয় সলোমনের সাথে। সলোমনের কাছে সে জানতে পারে মূল্যবান সেই হীরক খন্ডের কথা। ড্যানি হচ্ছে ধূর্ত শেয়াল, দীর্ঘদিন ডায়মন্ড স্মাগলিং এর কাজে জড়িত থেকে সবকিছুর নাড়িনক্ষত্রই সে জানে। সলোমনের মুখে সেই হীরক খন্ডের কথা শুনে ড্যানির চোখ চকচক করতে থাকে, মুখে ফুটে ওঠে শয়তানি হাসি। 

সে সলোমনকে তার পরিবার ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে নিয়ে ডায়মন্ডটি পাওয়ার অভিযানে নেমে যায়। এর মধ্যে আর্চারের সাথে এক আমেরিকান সাংবাদিক ম্যাডি বয়েনের (জেনিফার কনেলি) সাথে পরিচয় হয়। যে একটা ভালো গল্প জোগাড়ের জন্য যে কোনো কিছু করতে পারে। ম্যাডি বিভিন্নভাবে বিভিন্ন জায়গায় আর্চার এবং সলোমনকে সাহায্য করে। এখন হীরক খন্ড খুঁজে পেলেই তো কাজ শেষ না।

 সেটা যতক্ষণ ইউরোপের কর্পোরেট বেনিয়াদের হাতে তুলে দেওয়া না যায় ততক্ষণ সেটার মূল্য শূন্যই বলা চলে। হীরার বাজারকে নিয়ন্ত্রন করে এরকম এক কোম্পানির নাম হচ্ছে "ভ্যান ডি ক্যাপ"। ম্যাডির সহায়তায় যোগাযোগ করে এই কোম্পানির সাথে। প্রশ্ন এখন অনেক গুলো। ড্যানি, সলোমন, ম্যাডি কি শেষ পর্যন্ত খুঁজে পায় গোলাপি রঙ এর সেই অনিন্দ্য সুন্দর ব্লাড ডায়মন্ডটা? 

সলোমন কি শেষ পর্যন্ত খুঁজে পায় তার পরিবারকে? ব্লাড ডায়মন্ডের পেছনের নির্মম ইতিহাস শেষ পর্যন্ত কি ম্যাডি জানাতে পারবে মানুষকে? উত্তর পাবার জন্য ১৪৩ মিনিটের এই সিনেমাটি দেখে ফেলতে হবে দর্শককে। ২০০৬ সালে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রকাশনার সাক্ষাৎকারে ছবির পরিচালক এডওয়ার্ড উইক বলেন “গত বছর যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলারের হীরা আমদানি করেছে, যা পৃথিবীর অন্যান্য সব দেশের অর্ধেক আমদানির সমান। 

আমি লক্ষ্য করেছি উন্নয়নশীল দেশের সম্পদ শুধুমাত্র আমাদের বিলাসিতার জন্যে কীভাবে শোষিত হয়, কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর কোটি কোটি মুনাফা অর্জিত হয় এসব দেশের শ্রমিকের হাত দিয়ে যাদের মজুরী দৈনিক এক ডলারেরও নিচে।” যে কারণে সিয়ারা লিয়নের একজন হীরার খনির শ্রমিকের মুখে বলতে শোনা যায় “আমরা হীরা উৎপাদন করি কিন্তু একটা সাইকেল কেনার ক্ষমতা আমাদের নেই।

 এই দেশের ভূমি আমাদের, সবকিছু আমাদের, তবু কিছুই যেন আমাদের না।” এবার অভিনয়ের প্রসঙ্গে আসা যাক। মুভির গুরুত্বপূর্ণ তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও , জিমন সোনহাও এবং জেনিফার কনেলি। লিও এই সিনেমায় অভিনত করেছেন একজন ডায়মন্ড স্মাগলারের চরিত্রে। 

শুরুর দিকে রুক্ষ কঠিন অভিব্যক্তি দেখে মনে হবে, এই মানুষটা ভীষণ স্বার্থপর, স্বার্থের জন্য যে কোনো মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়াটা যার কাছে কোনো ব্যাপারই না। কিন্তু, সিনেমা যত সামনে আগাতে থাকে ততোই তার পাথর কঠিন মনের কোণে লুকিয়ে থাকা কোমল অংশটা প্রস্ফুটিত হতে থাকে। নির্দয় মনের আড়ালে মানুষের জন্য তারও যে একটা মায়া কাজ করে সেটা লিও তার অসামান্য অভিনয় দক্ষতার মাধ্যমে বুঝিয়ে দেন দর্শকদের। 

সিনেমার ক্লাইম্যাক্সে লিও আর জিমনের একটা কথোপকথন আছে, যে দৃশ্য এবং সংলাপগুলো দেখলে চোখের অশ্রু ধরে রাখাটা প্রায় অসম্ভবই হয়ে পড়ে। সলোমন রূপি জিমনের অভিনয়ের প্রশংসা যতই করবো, তার শেষ হবে না। ছবির কিছু অংশে লিওর চেয়েও সপ্রতিভ অভিনয় করেছেন জিমন। শুধুমাত্র চোখের মাধ্যমে যে এক্সপ্রেশনগুলো তিনি দিয়েছেন তাই যথেষ্ঠ তার অভিনয় প্রতিভা প্রদর্শনের জন্য। জেনিফার কনেলির স্পেস কম ছিলো । 

তার মাঝেও তিনি ছিলেন উজ্বল । একজন সাহসী সাংবাদিকের চরিত্রে তিনি পুরোপুরি সফলই ছিলেন বলা যায়। লিওনার্দো এবং জিমন দুজনেই তাদের অসাধারণ অভিনয়ের জন্য অস্কারে বেস্ট অ্যাক্টর ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পান। মোট ৫টি ক্যাটাগরিতে অস্কার নমিনেশন পায় এই ছবিটি, যদিও অস্কার পায় না শেষ পর্যন্ত। চলচ্চিত্রটি যখন মুক্তি পায়, সেই সময়টাতে ইউরোপের ডায়মন্ড মার্কেটে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল ডে বিয়ার গ্রুপের।

 সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর মানুষ যখন ডায়মন্ডের পেছনের রক্তাক্ত ইতিহাস জানতে পারে, তখন দলে দলে অনেকেই ডায়মন্ডের নিকট থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। ডে বিয়ার গ্রুপের মার্কেট শেয়ার আশংকাজনক হারে কমে যায় এতে। আইএমডিবিতে ৮, মেটাক্রিটিকে ৬৪%, রোটেন টমেটোজে ৯০% ফ্রেশ রেটিং পাওয়া ১৪৩ মিনিটের এই সিনেমাটি সবার কাছেই ভালো লাগবে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
Disclosure: This post May contains affiliate links that support our Blog. When you purchase something after clicking an affiliate link, we may receive a commission. Also Note That We Are Not Responsible For Any Third-party Websites Link Contents
MD: Ashikur Rahman

আমি একজন মুভি ও সিরিজ লাভার। সুপারহিরো জেনরে আমি মার্ভেল ও ডিসি সকলের তৈরী সিনেমাই পছন্দ করি দেখতে। আমার ব্লগ সাইটঃ www.Tvhex.Com চাইলে আমাকে ফেসবুক ও টুইটারে ফলো করতে পারেন। facebook twitter

Post a Comment

আপনাদের কোন কিছু জানার থাকলে আমাদের কে কমেন্ট করে জানাতে পারেন ।



if you have something to say, “Please Comment your Opinion ” Thank You.

Previous Post Next Post